• +8801623082282
  • riadhossain500@gmail.com
  • Dhanmondi, Dhaka, Bangladesh

একজন ইহুদির চোখে রাসুল (সা)-এর জীবনী

এ বইটি এক অবাক করা মানুষের অনবদ্য জীবনকথন- যে মানুষটির প্রচারিত বাণী আজ প্রায় দেড় হাজার বছর পরে এসে পালন করছে প্রায় দেড়শ কোটিরও বেশি মানুষ। যে পৃথিবীর আলো বাতাসে একদিন তিনি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়েছেন, বদলে দিয়েছেন সে পৃথিবীটিকেই। কিন্তু আর আট-দশটি বইয়ের সাথে পার্থক্য হলো, এ বইটি যে সাংবাদিক লিখেছেন তিনি জন্মসূত্রে ইহুদী।

যে ইহুদী সম্প্রদায়কে বৈরিতার চোখে দেখা হয়, সে সম্প্রদায়েরই একজনের লেখায় নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গিতে যখন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা)-এর মহানুভবতা উঠে আসে, তখন তো বইটি আলাদা হবেই! লেজলি হেইজেলটন মুহাম্মাদ (সা)-এর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোকে যেন জীবন্ত করে তুলে এনেছেন অক্ষরবন্দী করে।

প্রাচীনতম সীরাত বইগুলোকে আশ্রয় করে সমসাময়িক ইতিহাসবিদদের বিশ্লেষণে তিনি তুলে এনেছেন দেড় হাজার বছর আগের হেজাজের মরুভূমিকে। চমৎকার গবেষণা আর অনুসন্ধান শেষে লেজলি হেইজেলটন লিখেন তার ‘দ্য ফার্স্ট মুসলিম’ বইটি, যেটি পড়লে মনেই হবে না আপনি কোনো জীবনীগ্রন্থ পড়ছেন, বরং মনে হতে পারে পড়ছেন শিহরণ জাগানো এক গল্প। কিন্তু গল্পটি সত্যি! কখনো আদর্শবাদী কখনো বাস্তববাদী, কখনও দীন-প্রচারক, কখনও শাসক আর বিচারক, কখনও বা জড়িয়ে পড়ছেন যুদ্ধে আর কখনও অহিংসার আদর্শ- কখন কী কারণে কবে কেমনটি হয়েছিলেন তিনি? বিশ্বনন্দিত ‘দ্য ফার্স্ট মুসলিম’ বইটির বাংলা রুপায়ণ ‘দ্য প্রফেট’ কেবল সেই মানুষটির জীবনকথাই নয়, বরং তাঁর চিরস্থায়ী এক কিংবদন্তির উপাখ্যান। কোটি কোটি মানুষের অন্তরে তিনি স্রষ্টা প্রেরিত শেষ নবী।

লেজলি হেইজেলটন লিখেন তার ‘দ্য ফার্স্ট মুসলিম

এ বইটি লেখার জন্য তিনি মূলত কুরআন শরিফ, ইবনে ইসহাক ও তাবারির লেখা সিরাতকে অনুসরণ করেছেন। বলে রাখা প্রয়োজন, সিরাতে ইবনে ইসহাক, মানে ইবনে ইসহাকের লেখা সিরতা-ই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিরাত গ্রন্থ। এর সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত রূপের নাম সিরাতে ইবনে হিশাম, এটি বহুল পঠিত ও অন্যতম নির্ভরযোগ্য সিরাত গ্রন্থ বলে বিবেচিত।

লেখক লেজলি হেইজেলটন ইহুদী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ-আমেরিকান নাগরিক। সাইকোলজি বিষয়ে অনার্স করেছেন ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, মাস্টার্স করেছেন জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন জেরুজালেমে। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, হারপার্স ইত্যাদি থেকে। ২০১১ সালে তিনি সাহিত্যে ‘জিনিয়াস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। এই বইটি লিখেছেন মূলত পশ্চিমাদেরকে রাসুল (সা)-এর ব্যাপারে জানাতে। এছাড়াও ‘আফটার দ্য প্রফেট’, ‘মেরি’, ‘জেজেবেল’ ইত্যাদি তার লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

লেজলি হেইজেলটন; Image Source -Ted Blog

সবমিলিয়ে এই হলো ‘দ্য প্রফেট’। লেজলির এই বইটি পড়ে জীবনীগ্রন্থ পড়ছেন বলে মনেই হবে না। যারা সিরাতে আগ্রহী, ফিরে যেতে চান দেড় হাজার বছর আগের সেই সময়ে এবং বুঝতে চান রাসুল (সা)-এর জীবনের প্রতিটা পর্ব ও সে সময়ের সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা, অনুভব করতে চান মুহাম্মাদ (সা)-এর ব্যক্তিগত অনুভূতির মুহূর্তগুলোকে, এই বইটি তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।

অনুবাদক আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ নটরডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে তড়িৎকৌশলে অনার্স করেছেন ও আইবিএ থেকে এমবিএ করেছেন। রোর বাংলার মাধ্যমে তার লেখালেখি শুরু। ইতিহাস, কিংবদন্তি ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব তার পছন্দের বিষয়। ইহুদী জাতির ইতিহাস, অতিপ্রাকৃতের সন্ধানে ও সিক্রেট মিশনস : মোসাদ স্টোরিজ ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য বই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.